অনলাইন ডেস্ক: দস্যুদের কবল থেকে অলৌকিকভাবে পালিয়ে টানা তিন দিন তিন রাত সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছে খুলনার কয়রা উপজেলার কিশোর জেলে মেহেদি হাসান (১৬)। তার নিরাপদে ফিরে আসার খবরে স্বস্তি নেমে এসেছে পরিবার ও পুরো এলাকায়।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে নিখোঁজ মেহেদিকে উদ্ধারে স্থানীয়দের উদ্যোগে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয়। তিনটি ট্রলার ও ছয়টি নৌকায় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদী ও আশপাশের খালগুলোতে তল্লাশি চালান। হ্যান্ডমাইকে বারবার মেহেদিকে উদ্দেশ্য করে ডাক দেওয়া হচ্ছিল, যাতে সে আওয়াজ শুনে নিরাপদ স্থানে চলে আসে। তবে অনুসন্ধান চলাকালেই দুপুরে খবর আসে, মেহেদি নিজেই বাড়ি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা মেহেদি গত মঙ্গলবার কয়েকজন বনজীবীর সঙ্গে গোপনে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যায়। বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারা শাকবাড়িয়া নদী পেরিয়ে জোলাখালী খালে পৌঁছালে আফজাল বাহিনীর দস্যুরা তাদের নৌকা ঘিরে ফেলে। এ সময় মেহেদিকে জিম্মি করে নিজেদের নৌকায় তুলে নেয় এবং তার মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরিবার ধারদেনা করে দস্যুদের দাবি অনুযায়ী টাকা পাঠালেও, এর আগেই সুযোগ বুঝে দস্যুদের নৌকা থেকে পালিয়ে যায় মেহেদি। এরপর টানা তিন দিন তিন রাত সে সুন্দরবনের গহিন জঙ্গলে পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায়। একপর্যায়ে একটি জেলে নৌকার সহায়তায় লোকালয়ে ফিরতে সক্ষম হয়।
মেহেদির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ, পা ফুলে গেছে এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে সে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মেহেদির বাবা আবদুল্লাহ সরদার জানান, দস্যুরা ফোন করে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তারা সেই টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করলেও এর আগেই ছেলে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ছয় দিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান জানান, মেহেদির ভাষ্য অনুযায়ী, দস্যুরা তাকে তিন দিন ধরে আটকে রেখে নিয়মিত মারধর করেছে। পরে নলবুনিয়া খাল এলাকায় সুযোগ পেয়ে সে পালিয়ে যায়। পালানোর পর প্রথম দিন শুধু দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে। সামান্য শব্দ শুনলেই মনে হয়েছে দস্যুরা তাকে তাড়া করছে। এমনকি দূর থেকে অনুসন্ধানকারী নৌকাও দেখে ভয় পেয়ে আরও গভীর জঙ্গলে চলে যায়।
কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান সরদার বলেন, রোববার দুপুরে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের এক বাসিন্দা ফোন করে মেহেদির ফিরে আসার খবর জানান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আগে থেকেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।