নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খোলা রেখে ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) চাল ও আটা বিক্রি করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রাজধানীর ডি-৮ এলাকার সাধারণ মানুষ। বুধবার (২৮ জুলাই) ডি-৮ এলাকার ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে ওএমএস ডিলার বাবুল শেখের উদ্যোগে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিয়ম মেনে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। এতে বৃষ্টির মধ্যেও সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহের সুযোগ পান স্থানীয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে দিনের শুরু থেকেই ওএমএসের খাদ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম নিয়ে অনেকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় চাল ও আটার বস্তা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় বিক্রি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ডিলার ও তদারককারী কর্মকর্তার উদ্যোগে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে বৃষ্টি শুরু হলে ওএমএসের ট্রাকটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যাতে চাল ও আটা বৃষ্টির পানিতে নষ্ট বা ভিজে না যায়। এ সময় বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে। পরে তদারককারী কর্মকর্তা চাঁদ সুলতানাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং খাদ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
এরপর বৃষ্টির মধ্যেও নির্ধারিত স্থানে চাল ও আটা বিক্রি অব্যাহত থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ ক্রেতাদের মধ্যেও এতে স্বস্তি ফিরে আসে। অনেকেই জানান, বৃষ্টির কারণে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে তাদের খালি হাতে ফিরে যেতে হতো। কিন্তু ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তারা নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যপণ্য কিনতে পেরেছেন।
স্থানীয় একাধিক ক্রেতা বলেন, ওএমএসের চাল ও আটা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সময়ে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা পাওয়ায় তাদের সংসারের ব্যয় কিছুটা কমে। তাই কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিক্রি বন্ধ না করে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খাদ্যপণ্য বিক্রি চালু রাখার বিষয়টি তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, শুধু রোদ-বৃষ্টি নয়, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্যক্রম যথাসম্ভব সচল রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব মানুষ দিনমজুরি বা স্বল্প আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য ওএমএসের মাধ্যমে কম দামে খাদ্যপণ্য কেনার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে খাদ্যপণ্য ও বিক্রয় কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখতে ট্রাকটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এতে একদিকে খাদ্যপণ্য ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি কমে, অন্যদিকে বৃষ্টির মধ্যেও বিক্রয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
দুপুর ২টার দিকে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ট্রাকটি পলিথিন দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখা যায়। বিষয়টি তদারককারী কর্মকর্তা চাঁদ সুলতানাকে অবহিত করার পর তিনি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখেন এবং বিক্রয় কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
পরে বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে এবং সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। ফলে বৃষ্টির মধ্যেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা খাদ্যপণ্য সংগ্রহের সুযোগ পান।
বৃষ্টির মধ্যেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিক্রয় চালু রাখায় স্থানীয় অনেক ক্রেতা ডিলার বাবুল শেখ ও সংশ্লিষ্ট তদারককারী কর্মকর্তার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ওএমএস কার্যক্রমে নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি থাকলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে সরকারি সুবিধা পেতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওএমএসের মতো সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অকারণে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালু রাখা প্রশংসনীয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে খাদ্যপণ্য সুরক্ষায় ট্রাকটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে বিষয়টি তদারককারী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্রয় কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চাল ও আটা বিক্রি করা হয়।
সাধারণত বৃষ্টির মতো প্রতিকূল আবহাওয়ায় খোলা স্থানে খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। খাদ্যপণ্য ভিজে নষ্ট হওয়া, ক্রেতাদের ভোগান্তি এবং বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে এদিন সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বৃষ্টির মধ্যেও ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকায় ডি-৮ এলাকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা,ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ওএমএসের কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষ সহজেই সরকারি সুবিধা পাবেন।