মোঃআনজার শাহ
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাধার গুলশান লেককে দূষণমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। তাঁরা গুলশান লেকের বিভিন্ন এলাকা এবং মহাখালীস্থ রাজউকের ইউআরপি ভবন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শন কার্যক্রমে রাজউকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কালাচাঁদপুর এলাকায় গুলশান লেকের চলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং লেকের পানিদূষণ রোধে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি প্রকল্পটি দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি গুলশান-২-এর ১৮ নম্বর সড়কসংলগ্ন লেক এলাকাও পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর লেকগুলো শুধু নগরের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব লেককে দূষণমুক্ত রাখতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন বর্জ্য ও দূষণের কারণে লেকের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তুলতে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গুলশান লেকের পরিবেশগত ভারসাম্য ও নান্দনিকতা রক্ষায় রাজউক আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে রাজউক বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের প্রতিটি উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মহাখালীস্থ রাজউকের ইউআরপি ভবনও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দায়িত্বশীলতা, সততা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সেবার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই।
রাজধানীর জলাধার সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে সরকারের চলমান উদ্যোগকে আরও গতিশীল করতেই এ পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গুলশান লেককে দূষণমুক্ত রেখে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার প্রত্যয়ই এ পরিদর্শনের মূল প্রতিপাদ্য হয়ে উঠেছে।