মোঃ মনির হোসেন:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধ সংস্কারকাজ নিয়ে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নদীভাঙনের ঝুঁকি কমানো এবং বাঁধের স্থায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সংস্কারকাজ চললেও সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ফেলা মাটি ধসে পড়ছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব ও সংস্কারকাজের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় মাটি এনে ভরাট করার পরিবর্তে বাঁধের গোড়া থেকেই ভেকু বা এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ওপরের অংশে ফেলা হচ্ছে। ফলে বাঁধের মূল কাঠামোর নিচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই সেই মাটি ধসে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ক্ষয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির চাপ বাড়লে এভাবে দুর্বল হয়ে পড়া বাঁধ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধস
সরেজমিনে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংস্কার করা বাঁধের দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে নতুন ফেলা মাটি ভেঙে নিচের দিকে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে যাওয়ার চিহ্নও স্পষ্ট দেখা গেছে। বাঁধের ঢালে নতুন মাটির স্তর থাকলেও বৃষ্টির পানিতে তা বিভিন্ন স্থানে সরে গিয়ে নিচে জমা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে ওপরের অংশে ফেলা হলে সাময়িকভাবে বাঁধের উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব হলেও এর ফলে বাঁধের ভিত দুর্বল হয়ে যায়। সংস্কারকাজের মূল উদ্দেশ্য যেখানে বাঁধকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা, সেখানে বাঁধের নিচের অংশ কেটে মাটি নেওয়া হলে তা উল্টো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের দাবি, সংস্কারকাজে প্রয়োজনীয় মাটি অন্য স্থান থেকে এনে বাঁধের ওপর ও দুই পাশে পরিকল্পিতভাবে ভরাট করার কথা থাকলেও বাস্তবে বাঁধের নিচের অংশ থেকেই মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে যাচ্ছে।
প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় একই পদ্ধতিতে কাজের অভিযোগ
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধের প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একই পদ্ধতিতে সংস্কারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, বাঁধের প্রয়োজনীয় মাটি বাইরে থেকে এনে ব্যবহার না করে বাঁধের বিভিন্ন অংশ থেকেই মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি বাঁধের সংস্কারকাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর ভিত্তি ও ঢাল শক্তিশালী করা। কিন্তু যদি সংস্কারের সময় বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অতিবৃষ্টি, বন্যা বা নদীর পানির চাপের সময় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে বর্ষাকাল চলছে। এ সময় ভারী বৃষ্টিপাত হলে বাঁধের দুর্বল অংশগুলোতে পানি ঢুকে আরও বড় ধরনের ক্ষয় তৈরি করতে পারে। তাই কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের যেসব অংশে মাটি ধসে গেছে, সেসব স্থান দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সংস্কারের পরও ঝুঁকিতে বাঁধ
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুগন্ধি এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় এক কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও ওই অংশের বিভিন্ন জায়গায় মাটি সরে যাওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সংস্কারের পর যদি বাঁধের মাটি সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এর স্থায়িত্ব কতটা থাকবে।
তাদের দাবি, সংস্কারকাজের মান যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিটি অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা। শুধু কাজের পরিমাণ নয়, বাঁধের কাঠামোগত শক্তি ও মাটির মানও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগ
সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়দের আরেকটি অভিযোগ হলো, মূল ঠিকাদারের পরিবর্তে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের কাজের মান, তদারকি এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বড় ধরনের সরকারি প্রকল্পের কাজ সরাসরি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রক্রিয়া, কাজের পরিমাণ, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধির বক্তব্য
কাজে নিয়োজিত তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধি মো. মাহবুব বলেন, যতটুকু মাটি কাটা হয়েছে, সে অনুযায়ী বিল দেওয়া হবে। তবে কাজটি নিয়ে তারা নানা জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে ঠিকাদারের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
তার বক্তব্যে কাজের পরিমাণ ও বিল প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ করা বাঁধের স্থায়িত্ব, গোড়া থেকে মাটি কাটার পদ্ধতি এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ভাবে কাজ সমন্বয়ের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের অধিকাংশ উন্নয়নকাজ স্থানীয়ভাবে সমন্বয় ও তদারকি করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ঠিকাদার সরাসরি কাজ না করে তার মাধ্যমেই প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নীরবতা
ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম মিয়ার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজের অগ্রগতি, কাজের মান বা তদারকি বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। এমনকি সর্বশেষ কবে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন, সে তথ্যও জানাননি।
পরে তিনি সাংবাদিকের অনুসন্ধানের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কাজ তদারকিকারী মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপনকে অবহিত করেন।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্পের বাঁধ সংস্কারকাজের নিয়মিত তদারকি কীভাবে হচ্ছে এবং কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব কার ওপর রয়েছে।
মাটি ধসে যাওয়ার কথা স্বীকার ঠিকাদারপক্ষের
পরে মুঠোফোনে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে মাটি ধসে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে মাটি ধসে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগে সব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় ঠিক করে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে যতবার মাটি সরে যাবে, ততবারই সংস্কার করা হবে।
প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য তার কাছ থেকেই নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কাজ শেষ হওয়ার আগে বারবার মাটি ধসে পড়লে একইভাবে পুনরায় মাটি ফেলার পরিবর্তে বাঁধের মূল কাঠামো ও মাটি ব্যবহারের পদ্ধতি যাচাই করা হবে কি না। কারণ শুধু ধসে যাওয়া স্থানে নতুন করে মাটি ফেলে সংস্কার করলেই দীর্ঘমেয়াদে বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য
চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুনরায় মাটি ভরাট করে সংস্কার করা হবে।
শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু ব্যবহার করে কাজ পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের নামে যদি বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে ওপরের অংশে ফেলা হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত অর্থে বাঁধকে শক্তিশালী করার কাজ নয়। বরং এতে বাঁধের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কাজের পদ্ধতি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করা জরুরি।
তারা আরও দাবি করেন, প্রকল্পের আওতায় কত কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে, কত টাকা বরাদ্দ রয়েছে, কী পরিমাণ মাটি ব্যবহারের কথা এবং বাস্তবে কতটুকু মাটি ব্যবহার করা হয়েছে—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৌশলগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে যেসব স্থানে ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে মাটি ধসে পড়েছে, সেসব স্থানে নতুন করে মাটি ফেলার আগে বাঁধের ভিত্তি ও ঢালের অবস্থা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বর্ষায় বাড়ছে ঝুঁকি
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধ শুধু একটি এলাকার মানুষের জন্য নয়, বৃহত্তর অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত। বাঁধের কোনো অংশ দুর্বল হয়ে পড়লে অতিবৃষ্টি, নদীর পানির চাপ বা আকস্মিক বন্যার সময় তা বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বাঁধের ওপর তাদের কৃষি ও এলাকার জনজীবনের নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভরশীল। বাঁধ দুর্বল হলে একদিকে যেমন কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অন্যদিকে ঘরবাড়ি ও স্থানীয় সড়কও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ কারণে সংস্কারকাজে সাময়িকভাবে মাটি ফেলে কাজ শেষ করার পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিতের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত যেকোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে বাঁধের স্থায়িত্বের সঙ্গে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা জড়িত।
তাদের মতে, কাজের সময় ভেকু ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, কোথা থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে, বাঁধের কোন অংশ থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে, কীভাবে মাটি চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং কাজ শেষে বাঁধের ঢাল ও ভিত্তি কতটা শক্তিশালী থাকছে—এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রকৌশলগত তদারকি প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে যেসব স্থানে মাটি সরে গেছে, সেসব অংশ পুনরায় মাটি ভরাট করে ঠিক করা হবে। ফলে এখন দেখার বিষয়, সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো কতটা টেকসইভাবে মেরামত করা হয় এবং প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের যে প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা কীভাবে নিরসন করে।