আটঘরিয়ায় অবৈধ অর্থ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ: ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য

আটঘরিয়া প্রতিনিধি:

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ৬০ গাছা গ্রামে প্রবাস-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবি, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নতুন মোড় নিয়েছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রবাসী মোঃ টিপু মন্ডলের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা, মানসিক চাপ এবং চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার কারণে তিনি চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। গত ২৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় মোঃ রিপন মিয়া (৩০) ও মোঃ রুবেল হোসেন (৩২)-এর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোছাঃ মাসুমা খাতুন। অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু মন্ডল পূর্বে কম্বোডিয়ায় কর্মরত অবস্থায় কয়েকজনকে বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য কম্বোডিয়া প্রবাসী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বৈধ ভিসায় কম্বোডিয়ায় গেলেও নিয়মিত কাজে যুক্ত না হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর অভিযুক্তরা টিপু মন্ডলের কাছে বিভিন্ন সময়ে অর্থ দাবি করতে থাকেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে টিপু মন্ডল প্রবাসে থাকায় নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন।

পরিবারের দাবি, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গভীর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তারা অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের কারণে তাঁর চলমান চিকিৎসা এবং কেমোথেরাপি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

স্বজনদের ভাষ্য, জীবনের শেষ সময়ে টিপু মন্ডল অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তারা দাবি করেন, একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর জন্য নিয়মিত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মামলাজনিত পরিস্থিতির কারণে তিনি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা টিপু মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে পুনরায় অর্থ দাবি করেন। অর্থ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জামিনে মুক্তি পেলেও আবার জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে কম্বোডিয়া প্রবাসী রুহুল আমিন খোকন গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্তরা বৈধ ভিসায় একই প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দাবি, সেখানে নিয়মিত কাজ করলে ভালো আয় করা সম্ভব। তিনি নিজেও প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। তবে অভিযুক্তরা নিয়মিত কাজে যুক্ত ছিলেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

একই গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি নিয়মিত কাজ করে ভালো আয় করছেন এবং পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। অপর প্রবাসী আমিরুল ইসলাম জানান, বিদেশে আয় সম্পূর্ণরূপে কাজের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত কাজ না করলে প্রত্যাশিত আয় সম্ভব নয়।

টিপু মন্ডলের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত জানাজায়ও রিপন ও রুবেল বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ঘটনায় গ্রামের বহু মানুষ প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন।

বর্তমানে টিপু মন্ডলের পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *