মনিরুল ইসলাম:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সুলতানসাদী এলাকায় সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অটোচালক মাজাহারুল ইসলাম (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হলেও চার দিন পেরিয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ যথাযথ তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নিজ ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন মাজাহারুল ইসলাম। পরে তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. সাহেরা খাতুন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারান্দী এলাকায় অবস্থিত একটি সম্পত্তি নিয়ে মাজাহারুলদের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল। মামলার খরচ চালাতে নিহতের ছেলে তারিকুল ইসলাম সকল ওয়ারিশের সম্মতিতে ব্র্যাক থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পরে মামলায় সম্পত্তির রায় তাদের পক্ষে এলেও সহ-শরিক হানিফা, বকুল, নুরুল ইসলাম ভান্ডারীসহ অভিযুক্তরা ঋণের টাকা পরিশোধ না করে মাজাহারুল ইসলামের প্রাপ্য অংশ না দিয়ে নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে নেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন ব্র্যাকের এক কর্মী কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য মাজাহারুলের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী সাহেরা খাতুন অভিযুক্তদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা নেওয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মাজাহারুল স্ত্রীর পক্ষে কথা বললে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে মাজাহারুলসহ পরিবারের কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আপন কুমার বলেন, “ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”