নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারও দেশের পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত ছিল। টানা তিন কার্যদিবস ধরে এ খাতের অধিকাংশ ইউনিটের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য খাতের শেয়ারের দরপতনের কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক নিম্নমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও বড় মূলধনী কোম্পানির দর কমায় সেখানেও সূচক পতন হয়েছে। অবশ্য সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে।
দিনের শুরুতে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন খাতের বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। একপর্যায়ে প্রধান সূচক ২৪ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে লেনদেনের শেষভাগে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কমতে শুরু করলে বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। ফলে দিন শেষে সূচক ঋণাত্মক অবস্থানে নেমে আসে।
কার্যদিবস শেষে ডিএসইতে ১৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬৯টির দর কমেছে এবং ৫৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২৪টি ইউনিটের মূল্য বেড়েছে, পাঁচটির কমেছে এবং পাঁচটির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এদিন ভালো মৌলভিত্তির বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৪টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৯২টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮টির দর বেড়েছে, ৩৭টির কমেছে এবং নয়টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৩৯টির কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনেও কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১০ কোটি ৫১ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা কম।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফারইস্ট নিটিংয়ের লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মুন্নু ফেব্রিক্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ১ লাখ টাকার। এছাড়া এসিআই ফরমুলেশন, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সায়হাম টেক্সটাইল এবং মালেক স্পিনিংও লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩০ পয়েন্ট কমেছে। এদিন বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৯৭টির কমেছে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা।