কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আলোচিত নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. দিদারুল আলম (৪৭)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া দিদারুল আলম হাটহাজারী উপজেলার পূর্ব দেওয়াননগর এলাকার হামিদ আলী বাড়ির মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই শুক্রবার সকালে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের একটি জমিতে মাছ ধরতে যান নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল আজিম ওরফে আজম (৪০)। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাজু আক্তার বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর-১৪। মামলার প্রধান আসামি করা হয় মো. দিদারুল আলম ওরফে দিদারকে। মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল।
এর আগে একই মামলায় অভিযান চালিয়ে হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে আরও দুই আসামি—মোহাম্মদ মোরশেদ ওরফে আকিল (৩০) এবং মো. আলী আকবর (৫৫)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রধান আসামি দিদারুল আলমকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, পরিকল্পনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. দিদারুল আলমকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্তও গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।