নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে গত দুই বছরে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, শিল্পে নতুন কারখানা যুক্ত হলেও বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর প্রভাব কর্মসংস্থানের ওপর স্পষ্টভাবে পড়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান। তার মতে, কোনো শিল্পের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য নতুন কারখানার সংখ্যা নয়, বরং কর্মসংস্থান বাড়ছে নাকি কমছে—সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, সম্প্রতি প্রায় ১৩৯টি নতুন কারখানা চালু হয়েছে। তবে একই সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর কারণে মোট কর্মসংস্থান কমে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি, দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তন এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা দুর্বলতাকে তিনি এ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চাকরি হারানো অনেক শ্রমিক ইতোমধ্যে অন্য কারখানায় কাজ পেয়েছেন, কেউ বিদেশে চাকরি নিয়েছেন, আবার কেউ অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে শ্রমবাজার পুরোপুরি স্থবির হয়নি।
বর্তমান গ্যাস সংকটকে পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আখ্যা দিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গত দুই সপ্তাহে জ্বালানি ঘাটতির কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী, আগামী ৮ বা ৯ আগস্ট থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে বায়ার্স ফোরামের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
জুলাই মাসে রপ্তানি কিছুটা কমলেও এটিকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন না বিজিএমইএ সভাপতি। তার ভাষায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে—আর সেটি ছিল দেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির মাস।
তিনি জানান, পুরো বছর বিবেচনায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি রাখাই বিজিএমইএর প্রাথমিক লক্ষ্য। অন্যদিকে সরকার ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সংকট মোকাবিলায় আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু নতুন মেশিন আমদানি নয়, বাংলাদেশেই স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন এবং পুরোনো কারখানাগুলোতে বিএমআরই (আধুনিকায়ন ও পুনর্বাসন) কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এতে নতুন কারখানা না খুলেও উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে।