আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় চালানো এই হামলাকে চলতি বছরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বুধবার মধ্যরাতের পর হামলা শুরু হলে কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। এতে আবাসিক ভবন, গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বরিসপিল জেলায় ৯ জন, বুচা জেলায় ৪ জন এবং ফাস্তিভ জেলায় ১ জন নিহত হয়েছেন। বাকি হতাহতের ঘটনা অন্যান্য এলাকায় ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসনের দাবি, রাশিয়া আবারও বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। মঙ্গলবার মস্কো অঞ্চলে একটি গুদামে ইউক্রেনীয় হামলায় পাঁচজন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগের দিন রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত ও ৫৮ জন আহত হন বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে খেরসনে এক ব্যক্তিকে ড্রোন দিয়ে তাড়া করার একটি ভিডিও প্রকাশের পর ইউক্রেন এটিকে বেসামরিক মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলার প্রমাণ হিসেবে দাবি করেছে। যদিও যুদ্ধরত উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেন আবারও মিত্র দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও কার্যকরভাবে প্রতিহত করা যায়।