মনিরুল ইসলাম:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং তার কাছ থেকে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. ইকরাম হোসেন নিলয় (৩১) নামে এক ব্যক্তিসহ তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) আড়াইহাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে অভিযুক্ত ইকরাম হোসেন নিলয়ের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে নিলয় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিলয় আড়াইহাজার পৌর সদরে অবস্থিত তার বর্তমান ও স্থায়ী বাসভবনে ভুক্তভোগীকে নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে নিলয় এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই সকাল ১১টার দিকে নিলয়ের বাবা মো. সাখাওয়াত হোসেন মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীকে আলোচনার জন্য তাদের আড়াইহাজারের বাসায় যেতে বলেন। একই দিন দুপুরে তিনি সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নিলয়ের বাবা মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে গেলে নিলয় তাকে নিজের শোবার ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মো. ইকরাম হোসেন নিলয়ের পাশাপাশি তার বাবা মো. সাখাওয়াত হোসেন ও মা তাসলিমা আক্তার রুমাকেও আসামি করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।