কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের খোলা পিকআপও জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নুরের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এ সাফল্য আসে। অভিযানে অংশ নেন কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) কাজী মনিরুল করিম এবং তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, কক্সবাজার থেকে একটি পিকআপে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে একজন মাদক কারবারি চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় প্রবেশ করবে। এমন তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কোতোয়ালী থানাধীন লইট্টাঘাটা ৪ নম্বর ঘাটের প্রবেশমুখে মেরিনার্স রোডে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
চেকপোস্টে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে কক্সবাজার থেকে আসা একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের খোলা পিকআপকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পুলিশকে দেখে চালক গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মো. আবুল কালাম (৩৮)। তিনি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের উত্তর পুকুরিয়া এলাকার মৃত নজির আহম্মদের ছেলে।
পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পিকআপটি তল্লাশি করে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য এবং এগুলো চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কোনো মাদক চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৯, তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৬ মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ১০(গ)/৪১/৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরীতে মাদক পাচার ও কারবার দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।