“জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বে দ্বিতীয় কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতাও তাদের নেই”: রাশেদ খাঁনের 

মোঃআনজার শাহ

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বে দেশে দ্বিতীয় কোনো গণঅভ্যুত্থান হওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গণঅভ্যুত্থান কোনো “সস্তা বিষয়” নয় এবং দেশের জনগণ জামায়াতের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে না।

এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও দলটির সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদকে ঘিরে আলোচিত একটি ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে  মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনার দায় বিএনপি বা সরকারের ওপর চাপানোর একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সৃষ্ট সাময়িক সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলন উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করছে, জেলায় জেলায় কর্মসূচি পালন করছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাও পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাদের জোটে ভাঙন দেখা দিতে পারে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দেওয়ার পর সরকারবিরোধী রাজনীতির কথা ভাবার পরামর্শও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা একটি জটিল দায়িত্ব, যার জন্য সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে দীর্ঘ সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, জনগণ যদি জামায়াত ও এনসিপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতও, তবে তারা দীর্ঘ সময় সেই দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতো না।

বক্তব্যের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি কিংবা নতুন করে গণঅভ্যুত্থানের হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, দেশের জনগণ এখন স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *