হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৩১ বছরে সংগঠন আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা সত্যিই গর্বের”—অতিরিক্ত ডিআইজি

 

মোঃ আনজার শাহ

দীর্ঘ ৩১ বছরের পথচলায় বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে রয়েছে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পূর্বসূরিদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং বর্তমান নেতৃত্বের সম্মিলিত উদ্যোগ। ভবিষ্যতে সংগঠনটিকে আরও শক্তিশালী ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (মানিক)।
বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহ আলম। এতে সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে সালাম জানিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (মানিক) বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে তিনি সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করবেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় মন্ত্রী কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন।

“এই সংগঠনের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আমি সত্যিই ভীষণ গর্বিত”
সমিতির দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৩১ বছরে এসে সংগঠনটি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা সত্যিই গর্বের। এই অর্জনের জন্য সংগঠনের পূর্বসূরি এবং বর্তমানে যাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আমি আমাদের এই সংগঠনের বর্তমান অবস্থান নিয়ে সত্যিই ভীষণ গর্বিত। আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে এই সমিতির সঙ্গে পথচলা শুরু করেছিলাম, আজ তার অনেকটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”

১৯৯৭ সালের স্মৃতিচারণ:
নিজের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম আমি এই সমিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হই। শ্রদ্ধাভাজন অধ্যাপক ডা. রুহ আমিন সাহেব আমাকে প্রথম এই সংগঠনে নিয়ে আসেন। আমার মনে আছে, তখন আমাদের প্রথম দিকের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাবলিক লাইব্রেরিতে। সে সময় আমি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্নভাবে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৭ সাল থেকে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনের সঙ্গে থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান ও ধন্য মনে করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সদস্যপদ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা
অনুষ্ঠানে সমিতির সদস্যপদ নিয়ে একটি আলোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (মানিক)। বিশেষ করে সদস্যদের জীবনসঙ্গীদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত কি না, সে বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সংগঠন পরিচালনা করছেন।

হাস্যরসের সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রীকেও সমিতির সদস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রীর বাড়ি বরুড়ায় না হলেও তাঁকে কীভাবে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনের সদস্যপদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে সবাইকে সমান অধিকার ও সুযোগ দেওয়ার পথ আরও সুগম হবে।

“বরুড়ার মানুষের কল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখুক”
গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (মানিক) বলেন, “আমাদের সমিতি উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে। আমরা চাই, এই সংগঠন শুধু সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে না থেকে বরুড়ার মানুষের কল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখুক।”

অনুষ্ঠানে সমিতির স্থায়ী অধিকার ও সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সমিতির মুরুব্বি আব্দুল হক সাহেবের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এসব বিষয় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের অধিকার আরও সুসংহত হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩১ বছরের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি সামনে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য, সৌহার্দ্য ও জনকল্যাণের চেতনাকে ধারণ করে সংগঠনটি আগামী দিনেও বরুড়ার মানুষের পাশে থাকবে এটাই সবার প্রত্যাশা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সমিতির দীর্ঘ পথচলার সাফল্য, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং বরুড়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে সমিতির ভূমিকা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *