প্রকৃতির টানে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার-বরুড়া থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের হৃদয়ছোঁয়া ভ্রমণ

 

মোঃআনজার শাহ

“তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখো কিভাবে তিনি সৃষ্টি কর্ম শুরু করেছেন” পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আনকাবুতের এই মহিমান্বিত বাণীকে পাথেয় করে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে কুমিল্লার বরুড়া থানা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হলো এক স্মরণীয় কক্সবাজার ভ্রমণ।

গত ৯ আগস্ট ২০২৬, রোববার আয়োজিত এই ভ্রমণে অংশ নেন বরুড়া থানা প্রেস ক্লাবের কর্মব্যস্ত সাংবাদিকবৃন্দ। নিত্যদিনের ব্যস্ত সাংবাদিকতার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্রতীরে কাটানো এই সময়টুকু সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে করেছে আরও সুদৃঢ়।

ভ্রমণ কেবল বিনোদনের উপলক্ষ নয় একজন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে তা বাস্তবতাকে কাছ থেকে অনুভবের, নতুন জ্ঞান আহরণের এবং মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে গভীরভাবে অনুধাবনের এক অনন্য সুযোগ। কক্সবাজারের বিস্তৃত সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকরা পেয়েছেন পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করার সুবর্ণ সুযোগ।

এই আনন্দঘন ভ্রমণে অংশগ্রহণ করেন দৈনিক যায়যায়দিনের মোহাম্মদ মাসুদ মজুমদার, দৈনিক ঢাকার সোহেল খন্দকার, বাংলাভিশনের সুজন মজুমদার, দেশ বার্তার জাহাঙ্গীর হোসেন মীর, জিটিভির আরাফাত হোসেন, স্বাধীন সংবাদের আনজার শাহ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের হাসিবুল ইসলাম সজিব, প্রেজেন্ট টাইমের রাকিবুল ইসলাম, গণজাগরণের তোফাজ্জল হোসেন এবং কুমিল্লার ডাকের মো. নাসির উদ্দিন।

সমুদ্রের গর্জনের সাথে মিশে ছিল সাংবাদিকদের প্রাণবন্ত আলোচনা, প্রাণখোলা হাসি আর অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান। পেশাগত জীবনের বিচিত্র প্রসঙ্গের পাশাপাশি উঠে আসে দেশের গণমাধ্যম, সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা, সংবাদ সংগ্রহের কৌশল এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা।
বিশেষত, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের এই সুযোগ সাংবাদিকদের জন্য হয়ে ওঠে জীবন্ত পাঠশালা। একটি স্থানকে নিছক পর্যটকের চোখে নয়, বরং একজন সাংবাদিকের সংবেদনশীল দৃষ্টিতে তার সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত তাৎপর্য অনুধাবনের এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তারা।

কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন খাতের এক অমূল্য রত্ন। এর বিশাল সমুদ্রসৈকত, প্রাণবন্ত পর্যটন-ব্যবসা, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান এবং পর্যটকদের উপচেপড়া উপস্থিতি দেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। এ ধরনের ভ্রমণ ভবিষ্যতে পর্যটন, পরিবেশ, স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবন নিয়ে অনুসন্ধানী ও জনসচেতনতামূলক প্রতিবেদন রচনায়ও হয়ে উঠতে পারে দারুণ প্রেরণার উৎস।

সাংবাদিকদের এমন সম্মিলিত ভ্রমণ পেশাগত সম্পর্ককে করে আরও মজবুত, পাশাপাশি গড়ে তোলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার এক সুন্দর পরিবেশ। একই সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যত গভীর হয় পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়া, ততই শক্তিশালী হয় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত সহযোগিতার ভিত্তি।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এমন ভ্রমণ অব্যাহত থাকবে আগামী দিনগুলোতেও। পেশাগত ব্যস্ততার ফাঁকে প্রকৃতি, দেশ ও মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার এই সুযোগ গণমাধ্যমকর্মীদের অভিজ্ঞতার দিগন্তকে করবে আরও বিস্তৃত আর সেই অভিজ্ঞতাই সংবাদ পরিবেশনায় যোগ করবে নতুন বাস্তবতা, বৈচিত্র্য ও প্রাণময়তা।
কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারের এই ভ্রমণ তাই নিছক আনন্দ-বিনোদন নয়; বরং সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও পেশাগত জ্ঞান সমৃদ্ধ করার এক ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ী উদ্যোগ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *