“কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না, নির্বাচিত হয়ে আমি সবার এমপি” আবেগঘন সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন

 

মোঃআনজার শাহ

একটি টিভি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার চলাকালে প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে সবার প্রতি সমান দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তিনি তাঁর প্রয়াত পিতার রাজনৈতিক আদর্শ স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী:
প্রতিবেদক মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন, নির্বাচনকালে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন না। তাঁর ভাষায়, প্রত্যেক প্রার্থীই নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করেন এবং জনগণ যাকে যোগ্য মনে করে, তাকেই ভোট দেয়।
তিনি জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন শফিকুল আলম হেলাল, যিনি কুমিল্লার সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। মন্ত্রী তাঁকে একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, রাজনীতিতে দুজনেই নিজ নিজ চেষ্টা করেছেন, শেষ পর্যন্ত জনগণ তাঁকে ভোট দিয়েছে।

পিতার স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত মন্ত্রী:
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করে প্রতিবেদক বলেন, এই উত্তরের মধ্য দিয়েই তাঁদের অনুষ্ঠানের “ভিন্নমত ও সহমত” পর্বের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদক স্মরণ করেন মন্ত্রীর প্রয়াত পিতা এ কে এম আবু তাহেরের কথা, যিনি নিজেও প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করতেন না।
পিতার প্রসঙ্গ উঠতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, তাঁর বাবা প্রায়ই বলতেন এমপি হওয়ার পর তিনি সবার এমপি; যে তাঁকে ভোট দিয়েছে, তিনি তারও এমপি, আবার যে ভোট দেয়নি, তিনি তারও এমপি। দল-মত নির্বিশেষে কাউকে ভিন্ন চোখে দেখার মানসিকতা তাঁর পিতা কখনো পোষণ করতেন না।
মন্ত্রী বলেন, পিতার এই নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই তিনি রাজনীতি করেন। তাঁর ভাষায়, “আমার পিতা আমাকে শিখিয়েছেন, রাজনীতি মানুষের সেবক হওয়ার জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।”

সবার এমপি হওয়ার অঙ্গীকার:
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার এমপি। মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে সেটি তাঁর কাছে কোনো বিষয় নয় জনসেবাই তাঁর কাছে মুখ্য।
পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত মন্ত্রীর এই আবেগঘন বক্তব্য দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *