শেরশাহ মাইজপাড়ায় অবৈধ স্থাপনার দখলে সড়ক-ফুটপাত, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মোঃ সোহেল:

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ মাইজপাড়া এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে একের পর এক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে দোকান, কোথাও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে। এমনকি রেললাইনের ওপরও দোকান নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের ওপর অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও গ্যারেজ বসিয়ে রাখায় স্বাভাবিক যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। ফুটপাত ও রাস্তার জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের নালা ও ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে নালা পরিষ্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় কিছু স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থাপনায় অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগে যেসব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—মো. জসিম, মো. আহম্মদ, মো. জাকির, মো. জনি, মো. সোলায়মান, মো. লোকমান, মো. বাবুল, শেখ আহম্মদ ও মো. মিজানসহ আরও কয়েকজন। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ।

একাধিক বাসিন্দা বলেন, “রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটার জায়গা নেই। দোকান ও গাড়ি রাস্তার ওপর রাখায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন না হয়ে বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে।”

এলাকাবাসীর দাবি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি একাধিকবার অবহিত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাদের প্রশ্ন—জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং নিয়মিত নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কেন এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না?

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি, দখলমুক্ত ফুটপাত ও সড়ক উদ্ধার, ড্রেন-নালা পরিষ্কার এবং অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে সরকারি জায়গা দখলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *