খসরু মৃধা:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে ‘ডাকাতবেশে’ ঢুকে কুপিয়ে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। এ সময় শিশুসহ আরও ৩ জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর রক্তাক্ত জখম ও আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মঠবাড়ি ডিভাইন মারসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ সন্তানের জননী কামরুন নাহার আক্তার (৩৫) মারা যান।
নিহত কামরুন নাহার নগর বেলা গায়েনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের (৪১) স্ত্রী। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মঞ্জুরুল ইসলাম এবং তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম (১৬) ও শিশু শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া রোজা (৮)।
আহত শিশু শিক্ষার্থী বাড়িতে থাকলেও বাবা ও মেয়ে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরবেলা তেতুইতলা এলাকার ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের বাড়িতে। খবর পেয়ে শনিবার সকালে গাজীপুরের পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে (শনিবার ভোরে) মঞ্জুরুল ইসলামের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে টিনশেড বাড়ির ভেতরে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। বাড়িতে ঢুকেই দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কোপাতে শুরু করে। এ সময় ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ততক্ষণে মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী মারা যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও ওসি জাকির হোসেন বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত তাঁর স্বামী ও মেয়েরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁরা বলেন, বাড়ির ভেতরের আসবাবপত্র, টাকা-পয়সাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র অক্ষত রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিত কোনো শত্রুতার জেরেই এ ঘটনাটি ঘটতে পারে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্রাইমসিন ইউনিট, পিবিআই ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।
ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্থানীয়রা জানান, “আমরা আতঙ্কে রয়েছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। প্রতিনিয়তই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে এটা ডাকাতি নয়, দুর্বৃত্তদের হামলা—এ নিয়ে আমরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি।”