স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসা, ফ্ল্যাট ও আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র আবাসিক ভবন ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হলেও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার বাইবেল রোড, পল্লী বিদ্যুৎ, বাইপাইল, জিরানী, শ্রীপুর, বাদাইলসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কথিত অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি হঠাৎ গড়ে ওঠা কিছু ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে ‘আবাসিক হোটেল’ কিংবা ‘রেস্ট হাউজ’ নামের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থানে মাদক বেচাকেনা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বা কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়াদের দায়ী না করে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব ভবন বা আবাসিক হোটেলকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলতে চাওয়া মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন। সামান্য অর্থের বিনিময়ে কেউ কেউ মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
এদিকে, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চললেও আশুলিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এমন অভিযোগ অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কারা এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভবন মালিক ও অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করছে দৈনিক স্বাধীন সংবাদ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নেপথ্যের ব্যক্তি ও চক্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে শিগগিরই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।