স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর পল্টন থানাধীন গুলিস্তান এলাকায় একটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘বাউল গান ক্লাব’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মাদকদ্রব্যের কারবার, সেবন, গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান নামে এক অভিযোগকারী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলিস্তান শপিং মলের উত্তর পাশে মার্কেটটির দ্বিতীয় তলায় ‘বাউল গানের ক্লাব’ নামে একটি আস্তানা পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগকারীর দাবি, সেখানে রাতভর বাউল গানের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবনের আসর বসে। রাত যত গভীর হয়, সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনা তত বাড়তে থাকে এবং ভোর পর্যন্ত কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মার্কেটের সামনের সড়কে নিরাপত্তার নামে লোকজন অবস্থান করেন। আশপাশের ব্যবসায়ী, দোকানদার ও স্থানীয়দের একটি অংশ ওই স্থানে মাদকদ্রব্যের আসর ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মো. হাবিবুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে নানা অনিয়ম, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, পল্টন থানা পুলিশ-প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ছাড়াই মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় রাতব্যাপী ‘বাউল গান’-এর আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সেখানে আনা-নেওয়া করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। কেউ এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি দলীয় বা স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। কয়েকজন তরুণকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে অনেকেই বিষয়গুলো প্রকাশ্যে বলতে সাহস পান না বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে মোহাম্মদপুর থেকে ইমরান নামে এক ব্যক্তি বাউল গান শুনতে সেখানে গেলে তাকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত ও রক্তাক্ত হন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং বিষয়টি কাউকে জানালে অর্থ আদায়ের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি গোপনে ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, গুলিস্তানের বেকো রেস্তোরাঁ ও ঢাকা সু- কোম্পানির ওপরের দ্বিতীয় তলায় গড়ে ওঠা কথিত ‘বাউল গানের ক্লাব’-এ বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তির আনাগোনা রয়েছে। অভিযোগকারী এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে অভিযোগে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার যে দাবি করা হয়েছে, তারও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে গিয়ে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে দ্রুত তদন্ত করে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।