মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করে। মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমনই কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি কায়সার আলম সেলিম।
মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি:
বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালি, সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে কায়সার আলম সেলিম মাদকের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বারোপ করছেন। বিশেষ করে আগানগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে তিনি প্রধান বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদক নির্মূলে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
“মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়”:
বক্তব্যে কায়সার আলম সেলিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয়, প্রভাব কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, একজন তরুণের হাতে মাদক পৌঁছে দেওয়া মানে শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নষ্ট করা নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎ এবং পুরো সমাজের নিরাপত্তা জড়িয়ে আছে। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
“নীরবতা মাদককে শক্তিশালী করে”:
কায়সার আলম সেলিম আরও বলেন, বরুড়াকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য। প্রত্যেক পরিবারকে তাদের সন্তানের চলাফেরা ও বন্ধুমহল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কোথাও মাদকের বিস্তার বা কেনাবেচার তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নীরবতা মাদককে শক্তিশালী করে, আর সম্মিলিত প্রতিরোধ মাদককে পরাজিত করতে পারে।
তিনি সমাজের অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা:
সচেতন মহল মনে করছে, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের এমন সক্রিয় ভূমিকা জনসচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বরুড়ায় মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।