কেরানীগঞ্জে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে অন্যের জমি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেরচর মৌজায় রাতের আঁধারে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে অন্যের মালিকানাধীন জমি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দক্ষিণ বালুর চর গ্রামের মধুসিটি রিভারভিউয়ের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় মধুসিটি রিভারভিউয়ের মো. আমিন, নূরুল ইসলাম (ভেন্ডর), মো. মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি জমিতে মালিকের অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। পরে তাদের প্রতিবাদের মুখে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যেরচর মৌজার দক্ষিণ বালুর চর এলাকায় মধুসিটি রিভারভিউয়ের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ওই জমিতে প্রথমে দিনের বেলায় বালু ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, কয়েক দিন পর স্থানীয়দের চোখ এড়িয়ে রাতের আঁধারে আবারও ড্রেজার এনে বালু ফেলার কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় দ্রুতগতিতে ড্রেজারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু ফেলে জমিটি ভরাট করা হয়েছে। এভাবে জমি ভরাটের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। দিনের বেলায় স্থানীয়দের বাধার কারণে রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এ কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়া বালু ফেলে জমির আকৃতি ও সীমানা পরিবর্তন করা হলে পরবর্তীতে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় বিরোধ ও উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু হলে আমরা বাধা দিয়েছিলাম। তখন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরে রাতের বেলায় ড্রেজার এনে দ্রুত জমি ভরাট করা হয়েছে। জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়া এভাবে জমি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করা হলে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

অভিযোগ রয়েছে, মো. আমিন, পিতা—মৃত হাজী মধু; আনিছুর রহমান (কুদ্দুস), পিতা—বাচ্চু মিয়া; মো. মামুন, পিতা—হাবিব মিয়া; মো. খালেক, পিতা—বাদশা মিয়া; শরিফ, পিতা—মৃত করম আলী এবং ফারুক, পিতা—আলী মিয়াসহ কয়েকজনের যোগসাজশে জমি দখলের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, জমিটির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা এবং বালু ভরাটের বৈধতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে রাতের আঁধারে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে জমি ভরাটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমির কাগজপত্র, মালিকানা এবং ভরাটের অনুমোদন যাচাই করুক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত জমির মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে জমি দখল বা অবৈধভাবে ভরাটের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি দাবি করেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *