মোঃআনজার শাহ
দেশে ভবন নির্মাণে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সঠিকভাবে পালিত হয়নি মন্তব্য করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, এখন থেকে এসব আইন-কানুন কড়াকড়িভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, অনুমোদিত নকশায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও গত ১৭ বছরে অনেক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান তা প্রতিপালন করেনি। এই ধারা আর চলতে দেওয়া হবে না; কেউ অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আজ সচিবালয়ের মন্ত্রণালয় সম্মেলন কক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরা:
সভায় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন। এ ছাড়া রিহ্যাব ও ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ড. আলী আফজাল, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, লিয়াকত আলী খান মুকুল, ড. এম এ কাইয়ুম, মো. রায়হানুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী ও প্রকৌশলী এ কে এম রেজাউল করিম রেজাসহ উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া হবে শতভাগ ডিজিটাল:
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, রাজউকের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এবং নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করে রাজধানীর বাইরের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংহত ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে আনা হবে। এর মাধ্যমে অনুমোদিত নকশা মেনে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব আবাসন গড়ার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গ্রাহক ভোগান্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য:
মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর গ্রাহকদের ভোগান্তি মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অনেকে বছরের পর বছর টাকা দিয়েও তাদের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট পাচ্ছেন না; আবার কেউ কিস্তি চালিয়ে যেতে না পারায় জমা দেওয়া টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এসব বিষয় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি নির্মাতাদের:
রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সভায় আইন ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ ও আবাসন উন্নয়নের বিষয়ে তাঁদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সম্পর্কিত মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নিয়মের সঠিক বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে আবাসন খাতে জনসাধারণের আস্থা আরও বাড়বে।