জমি দখলের অপচেষ্টা ও নির্মাণাধীন ওয়াল ভাঙচুর, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ মিজানের বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ধনকুটা এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি দখলের চেষ্টা, নির্মাণাধীন বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মিজানুর রহমান মিজান ও তার সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে জমিতে প্রবেশ করে সদ্য নির্মিত বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফেলে এবং জমির মালিকদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল ধনকুটা এলাকার মৃত রমিজ উদ্দিন আহমেদের দুই মেয়ে উম্মে সালমা ও উম্মে হাবিবা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া প্রায় ২৪ শতাংশ জমির মালিক। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে গত বছরের জুন মাসে মিজানুর রহমান মিজান, হেল্লাল আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ওই জমিতে গিয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইনবোর্ডটি সরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মিজান ও তার সহযোগীরা জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি তারা নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে সীমানা নির্ধারণ ও নিরাপত্তার জন্য বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গত বুধবার উম্মে হাবিবা তার জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। কিন্তু ওই রাতেই মিজানুর রহমান মিজান ও অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৫ জন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাতের আঁধারে অভিযুক্তরা সদ্য নির্মিত বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় ওয়াল ভাঙার কারণ জানতে চাইলে মিজান ওই জমি তাদের বলে দাবি করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। টাকা না দিলে জমিতে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না এবং নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। বারবার বাধা দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ করা বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মিজানুর রহমান মিজান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার বাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মাদক সেবন ও বিক্রির আসর বসে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, মিজানের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তার প্রভাব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও ভয়ে বিষয়গুলো নিয়ে অনেকে নীরব রয়েছেন বলে দাবি তাদের।

তবে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজানের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জমির প্রকৃত মালিকানা, বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত মিজান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবারটি।

স্থানীয়দেরও দাবি, জমি দখল, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *