স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর বাড্ডা জাগরণী সংসদে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ক্লাবটির আড়ালে অবাধে জুয়া পরিচালনা করে আসছে। এতে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের আড়ালে নামে-বেনামে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এসব আসরে রাত-দিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো হয়ে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জুয়ার কারণে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাড্ডা জাগরণী সংসদ। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে মাসুদ ও সোহেল নামের দুই ব্যক্তি জুয়ার আসর পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জুয়া পরিচালনার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রকাশ্যেই চলছে কথিত জুয়ার আসর। এতে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বাড্ডা জাগরণী সংসদে জুয়া পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক স্বাধীন সংবাদের প্রতিবেদকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং মাসুদ ও সোহেল সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হলে বিষয়টি বাড্ডা থানাকে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বাড্ডা জাগরণী সংসদসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জুয়ার নামে পরিচালিত এসব কার্যক্রম দ্রুত বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জুয়ার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, জুয়া নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার কঠোর আইনগত পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছে। অনলাইন জুয়া ও বেটিংসহ বিভিন্ন জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।