পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ২৩ সেপ্টেম্বর, বরুড়ায় চালু হচ্ছে ‘এ.কে.এম. আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতাল’: কায়সার আলম সেলিম

মোঃআনজার শাহ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর ফুরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতাল। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালটি চালু হলে বরুড়ার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় সূচিত হবে এক নতুন অধ্যায় এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

হাসপাতালটির উদ্বোধন-প্রস্তুতিকে সামনে রেখে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর ও তদারকিতে ব্যস্ত রয়েছেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম। হাসপাতালের সংস্কারকাজ, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং উদ্বোধন-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় তিনি নিজে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই হাসপাতালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আর এলাকাবাসীর চিকিৎসাসেবার প্রত্যাশা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রয়াত পিতা এ.কে.এম. আবু তাহের নিজ জন্মভূমি বরুড়ার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতালের জন্য জমি কিনে দিয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে সন্তানের প্রত্যয়:
এ প্রসঙ্গে বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম বলেন, “মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের আমার চাচা। জীবদ্দশায় তিনি সবসময় মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতেন। নিজ জন্মভূমির মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেজন্য জমিও কিনে দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও তদবিরের মাধ্যমে তিনি এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, চাচার আকস্মিক মৃত্যুর কারণে তিনি নিজের জীবদ্দশায় হাসপাতালটি চালু হতে দেখে যেতে পারেননি। এরপর দীর্ঘসময় নানা জটিলতায় কাজও পূর্ণাঙ্গভাবে এগোয়নি। আজ সেই অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।
কায়সার আলম সেলিম বলেন, “চাচার যোগ্য সন্তান জাকারিয়া তাহের সুমন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর পিতার অসমাপ্ত কাজটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, চাচার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনেই হাসপাতালটি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—যা আমাদের পরিবারের জন্য যেমন গভীর আবেগের, তেমনি বরুড়াবাসীর জন্যও অত্যন্ত আনন্দের একটি মুহূর্ত।”

স্বাস্থ্যসেবায় রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
তিনি বলেন, ২০ শয্যার এই হাসপাতাল চালু হলে বরুড়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ অনেক সহজ হবে। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের সামান্য অসুস্থতা কিংবা জরুরি প্রয়োজনেও দূরদূরান্তে ছুটতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এই সেবা চালু হলে মানুষের সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ সবই কমবে।
“আমি চাই, এই হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে না থেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে উঠুক। এখানে যেন মানুষ মানবিকতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেবা পান এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা,” বলেন তিনি।

চাচার মাগফিরাত কামনায় দোয়া:
প্রয়াত চাচাকে স্মরণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কায়সার আলম সেলিম বলেন, “আমি মহান আল্লাহর দরবারে আমার চাচার জন্য দোয়া করি তিনি যেন তাঁর জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, কবরকে নূরে ভরিয়ে দেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। তিনি যে কল্যাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন যেন মানুষের কল্যাণের মধ্য দিয়ে যুগ যুগ বেঁচে থাকে।”
তিনি বলেন, চাচার অসমাপ্ত স্বপ্ন মানুষের সেবায় বাস্তবায়িত হলে সেটিই হবে তাঁর প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন।

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের জন্য দোয়া:
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের জন্য দোয়া করে কায়সার আলম সেলিম বলেন, “মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থতা, শক্তি, প্রজ্ঞা ও ধৈর্য দান করেন। সরকার প্রদত্ত দায়িত্ব তিনি যেন সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে আরও নিবেদিত করতে পারেন এই দোয়াই করি।”
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে মানুষের সেবা করার তাওফিক দেন, তাঁর প্রতিটি ভালো উদ্যোগে বরকত দান করেন এবং পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো জনকল্যাণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের শক্তি ও সামর্থ্য দান করেন।

বরুড়াবাসীর জন্য নতুন প্রত্যাশার আলো:
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ২০ শয্যার এই হাসপাতাল চালু হলে বরুড়া উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ ও প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
একটি হাসপাতাল কেবল ইট-পাথরের অবকাঠামো নয় অসুস্থ মানুষের কাছে এটি আশার আলো, বিপদের দিনে পরিবারের ভরসা, সুস্থ জীবনে ফিরে যাওয়ার অন্যতম আশ্রয়স্থল। সেই অর্থে মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহেরের স্বপ্নের এই হাসপাতাল বরুড়াবাসীর জন্য খুলে দেবে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনকে ঘিরে বরুড়াবাসীর মধ্যে ইতিমধ্যে জেগে উঠেছে উৎসাহ ও প্রত্যাশার ঢেউ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশাই এখন সবার কণ্ঠে।
“চাচার স্বপ্ন ছিল মানুষের সেবা করা। সেই স্বপ্ন মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়িত হোক এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।”
…….কায়সার আলম সেলিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *