এ আর সুমন:
দুর্গম হাওর পেরিয়ে আর দূরের কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে না ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের অনেক শিক্ষার্থীকে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ইটনা সরকারি কলেজকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত সংশোধিত কেন্দ্র তালিকায় ইটনা সরকারি কলেজকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তিন হাওর উপজেলার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য দূরবর্তী কেন্দ্রে যাতায়াতের দুর্ভোগ, সময় ও বাড়তি পরিবহন ব্যয় কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
হাওরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দূরের কেন্দ্রে যাওয়া নতুন কোনো সমস্যা নয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে উত্তাল হাওর পাড়ি দিয়ে নৌপথে যাতায়াত, প্রতিকূল আবহাওয়া, অনিশ্চিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাড়তি যাতায়াত খরচ—সব মিলিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে হতো নানা বিড়ম্বনায়। অনেকের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতির চেয়েও বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত কেন্দ্র তালিকায় ইটনা সরকারি কলেজকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকার কাছাকাছি পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ।
হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরীক্ষার দিন মানেই শুধু কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ যাত্রা, নৌপথের অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি অর্থের ব্যয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়েও তৈরি হয় নানা উদ্বেগ।
এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার আগের দিনই দূরের কেন্দ্রে পৌঁছে থাকতে হতো। এতে বাড়তি যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ যেমন বাড়ত, তেমনি পরীক্ষার মানসিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়ত।
ইটনা সরকারি কলেজকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণের ফলে এসব সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এই উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় মাননীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতেও কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দুর্গম হাওর এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণের এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় হাওরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তাঁদের মতে, ভৌগোলিক কারণে পিছিয়ে থাকা হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ যত সহজ ও নিরাপদ করা যাবে, ততই বাড়বে উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ। পরীক্ষাকেন্দ্রের দূরত্ব কমানোর পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, সুবিধা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে হাওরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ইটনা সরকারি কলেজকে ডিগ্রি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয় নয়, স্থানীয়দের কাছে এটি হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।