স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম প্রথম সহকারী জজ আদালতের পেশকার নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি, বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের হয়রানি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে কর্মরত থাকার সুযোগে নিজ পদমর্যাদাকে ব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার নূর সোনাপুর গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে নিজাম উদ্দিন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রের দাবি, আদালত পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্নভাবে সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের হয়রানি করে আসছেন। মামলার নথি, ফাইল কিংবা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা তৈরির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মামলার নথি বা ফাইল সরিয়ে নেওয়া, কাজ বিলম্বিত করা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সব তথ্য ও নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে নিজাম উদ্দিনের বৈধ আয় ও তার জীবনযাত্রার মানের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এবং এসব সম্পদের অর্থের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় নিজ এলাকায় এবং চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিজাম উদ্দিনের নামে-বেনামে জমি, বাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক বিনিয়োগ রয়েছে। এসব সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য বের করার দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে তার কথিত সম্পদের পরিমাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, জমি ও ভবনের দলিল এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে আসেন। সেখানে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, হয়রানি বা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাকেও দায়মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে প্রতিবেদক তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রয়োজন হলে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে নিজাম উদ্দিনের আয়, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও সম্পদ অর্জনের উৎস যাচাই করা হোক।
তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে বিচারপ্রার্থীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।