আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আরব বিশ্বের অন্যতম দেশ মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এ সম্পর্কের আওতায় শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে দূতাবাস স্থাপন এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে।উভয় পক্ষ বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালনায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করা। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরের পরিকল্পনাও নিয়েছে ইসরায়েল ও মরক্কো।গতকাল বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ও মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বৌরিতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত দুটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেন তারা।বৈঠকটির উদ্যোক্তা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। আয়োজক দেশের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য মাইক ওয়াল্টজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মার্কিন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মরক্কো ও ইসরায়েলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক, শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন উভয় দেশেরই যৌথ স্বার্থের অনুকূল এবং তা শান্তির প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে।’উল্লেখ্য, মরক্কোর আগে আরব বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইসরায়েল। এ ক্ষেত্রে প্রথম দেশটি ছিল মিসর। ১৯৭৯ সালে ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে মিসর। এরপর একে একে জর্ডান (১৯৯৪), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০২০), বাহরাইন (২০২০) এবং সুদানের (২০২০) সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাত ২০২১ সালে। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ওই বছর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে মরক্কো-ইসরায়েল লিয়াজোঁ দপ্তর স্থাপন করা হয়। সেই সম্পর্ককেই এবার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে যাচ্ছে উভয় পক্ষ।