স্টাফ রিপোর্টার:
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ কাজ বাস্তবায়ন না করেই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জোবায়ের হোসেনের সহযোগিতার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও নির্ধারিত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালিয়া উপজেলায় সাংবাদিকদের দুটি প্রেসক্লাব রয়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার লক্ষ্যে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম দুটি প্রেসক্লাবের জন্য পৃথকভাবে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দেন। এর মধ্যে একটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদুল আলম এবং অপর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বাদল হাওলাদার।
জানা যায়, মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বাধীন প্রেসক্লাবের নামে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ওই প্রকল্পের কাজও বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, মো. বাদল হাওলাদারের সভাপতিত্বাধীন প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও বরাদ্দ চাওয়া হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন তাকে জানান, একই নামে দ্বিতীয়বার বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে অন্য একটি সংগঠনের নামে বরাদ্দ নেওয়ার কথা বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্পের কাজ প্রেসক্লাবের জন্য করা হবে বলে তাকে জানানো হয়।
পরবর্তীতে মো. বাদল হাওলাদার একটি সংগঠনের নাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংগঠনের নামে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। পরে তারা বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সংগঠনের নামে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বাদল হাওলাদারকে ডেকে পাঠান। তখন প্রেসক্লাবের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও কেন সংস্কারকাজ করা হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় প্রেসক্লাব সংস্কারের জন্য বরাদ্দের অর্থ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এ ঘটনার পর দীর্ঘ ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রেসক্লাব সংস্কারের কাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটুকু হয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, কাজ বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, টিআর প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেনের ভূমিকা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, তাঁর সহযোগিতা ছাড়া প্রকল্পের নামে বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটার সুযোগ ছিল না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে, টিআর প্রকল্পের অর্থ সরকারি বরাদ্দ হওয়ায় নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন না করে অর্থ ব্যয় বা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে কি না এবং বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, যিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।