মো. রাজিব তালুকদার:
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কুড়িল বিশ্বরোডের একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কুড়িল বিশ্বরোডের ৯৫/ক নম্বর ভবনে, পূবালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘হোটেল পূর্বাচল’-এ আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হোটেলটির ব্যবস্থাপক রবিউল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তবে হোটেলকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। ফলে হোটেলটিতে অবস্থানকারী সাধারণ অতিথি এবং আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে ‘হোটেল পূর্বাচল’-এর ব্যবস্থাপক রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা থানায় মাসোয়ারা দিই। যা কিছু জানার থানার ওসির কাছে জানেন।”
ব্যবস্থাপকের এমন বক্তব্যের পর হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ব্যবস্থাপক রবিউলের বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে মাদক বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, হোটেলটিতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, কুড়িল বিশ্বরোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় আবাসিক হোটেলগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ‘হোটেল পূর্বাচল’কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় মাদকবিরোধী অভিযান এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।