অসুস্থ গাভীর মাংস খেয়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ, নারী-শিশুসহ আক্রান্ত ২০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে অসুস্থ গাভীর মাংস খাওয়ার পর নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা ও ঘা এবং জ্বর দেখা দেওয়ায় তারা শনিবার থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলামের একটি গাভী অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার সেটি জবাই করা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন মাংস ভাগাভাগি করে নেন। মাংস জবাই ও কাটাছেঁড়ার সঙ্গে এলাকার বেশ কয়েকজন যুক্ত ছিলেন। পরে তারা ওই মাংস রান্না করে খেয়ে নেন।

এর পরদিন শনিবার গ্রামের অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা ও ঘা দেখা দেয়। একই সঙ্গে অনেকে জ্বরে আক্রান্ত হন। বিষয়টি জানাজানি হলে আক্রান্তরা চিকিৎসার জন্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, মঞ্জুরুল ইসলামের অসুস্থ গাভীটি শুক্রবার জবাই করে এলাকার লোকজন মাংস ভাগাভাগি করে নেন। মাংস কাটাছেঁড়া ও জবাইয়ের সঙ্গে এলাকার বেশ কয়েকজন যুক্ত ছিলেন। পরে তারা মাংস রান্না করে খান। শনিবার গ্রামের অনেকের শরীরে ফোসকা, ঘা ও জ্বর দেখা দেয়।

এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র রোদের মধ্যেও জ্বর ও পেটে বড় আকারের ফোসকা নিয়ে শুয়ে আছেন জয়নাল আবেদীন। তার মতো আরও অনেকে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন—রুমি বেগম, রশিদা বেগম, আব্দুল জলিল, সফিউল ইসলাম চান মিয়া, শফিক, জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রশিদ, গোলেজান বেগম, রাবেয়া খাতুন, রাহেলা খাতুন, শরিতোন নেছা, দোলেনা আকতার, আজমিন আরা, ফাহিমা, ফুলমতি বেগম ও নুর আকাইদসহ ২০ জন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২০ জন রোগী অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশা করা হচ্ছে, তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, এর আগেও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে ওই এলাকায় পাঁচজন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় সামাজিকভাবে বিভিন্ন বৈঠক এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কসাইদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গবাদিপশু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়ে মাইকিং করে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু এসব আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করায় মানুষ বারবার আক্রান্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে সোমবার সকালে সুন্দরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *