আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরের এক দিন আগে আরাগচি সেখানে পৌঁছান। পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে তেহরান ছাড়ার কথা রয়েছে। তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আরাগচি। এ সময় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আরাগচি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে ইরানি জনগণের অধিকার ও স্বার্থ তুলে ধরাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মূল প্রতিনিধিদলকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তবে নিউইয়র্কে তাদের চলাচল ও নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে আরাগচি কাতারে যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যোগাযোগ ও আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আরাগচি আলোচনা করবেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানি নেতৃত্বের নিউইয়র্ক সফরকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।