আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে সংরক্ষিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ইউএম যুদ্ধবিমান ও সামরিক ট্যাংকের ওপর উঠে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তাদের। এ ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার সকালে পাঞ্জাবের ফাগওয়ারায় অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বহিরাগতদের হাতে এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
তবে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ধর্ষণের অভিযোগ ও এ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
ক্যাম্পাস থেকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধভাবে স্লোগান ও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। কিছু ভিডিওতে ভবনের কাঁচ ও ফুলের টব ভাঙচুরের দৃশ্যও দেখা গেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেওয়ার এবং কিছু দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হোস্টেলের সামনে থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় কোনো নির্মাণশ্রমিক জড়িত থাকতে পারেন বলেও তারা দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রদেশের কাপুরথলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব তুরা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, মূলত একটি গুজবকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন। একই সঙ্গে এলপিইউ প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের কিছু ক্ষোভের বিষয়ও পুলিশ জানতে পারে। তাদের অভিযোগ শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পরে জলন্ধর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) নবীন সিংলা জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে জানিয়েছে, জি৩ হোস্টেলের এক ছাত্রী তিন দিন আগে ধর্ষণের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ডিআইজি সিংলা বলেন, পুরো ঘটনা নিখুঁতভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন রেকর্ড ও ফরেনসিক পরীক্ষার সহায়তা নেওয়া হবে। ছাত্রপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে পুলিশ। ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার (এসপি) মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে দলটি তদন্ত করবে।
অন্যদিকে এলপিইউয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমানে যেসব গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু ‘সমাজবিরোধী গোষ্ঠী’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বানানো ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে এসব গুজবে কান না দিয়ে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক বার্তার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।