গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শেষে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য আব্দুল মালেক আকন্দের সঙ্গে একই গ্রামের খাদেম হোসেন ও হাদী আকন্দের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে খাদেম হোসেনের লোকজন আব্দুল মালেক আকন্দের ক্রয়কৃত জমিতে থাকা গাছ কাটতে যান। এ সময় তার স্ত্রী শাহানা বেগম ও মেয়ে মুভি আক্তার গাছ কাটতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খাদেম হোসেন ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মুভি আক্তারকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং শাহানা বেগমের শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে খাদেম হোসেন ও তার লোকজন আব্দুল মালেক আকন্দের বসতবাড়িতে আবারও হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তারা ঘরের দরজা ভাঙচুর করেন এবং আলমারিতে থাকা প্রায় ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন বাদী।
ঘটনার পর আব্দুল মালেক আকন্দের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে খাদেম হোসেন, হাদী আকন্দ, আবুল কালাম আজাদ, সেলিনা বেগম, মিম খাতুন, সিফাত মিয়া, সম্পা বেগম, শাহিন মিয়া ও শফিকুল ইসলামসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর পলাশবাড়ী থানার এসআই জুয়েল আলী মামলাটি তদন্ত করেন।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম খান বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।