আব্দুল আজিজ:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘরগুলোর কোনোটিতে বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসিন্দা থাকেন না, কোনো ঘরে ঝোলানো তালায় জং ধরেছে, কোনোটি অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু ঘর চড়া দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাতকানিয়ার এওঁচিয়া ইউনিয়নে ৪৮টি, মাদার্শা ইউনিয়নে ১৩টি এবং ছদাহা ইউনিয়নে ২৭টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদার্শা ইউনিয়নের ১৩টি ঘরের মধ্যে দুটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ঝোলানো তালায় জং ধরেছে। একটি ঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে তিনি অন্যত্র বসবাস করছেন। বর্তমান বাসিন্দা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় তিন মাস আগে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় ঘরটি কিনে বসবাস করছেন। এদিকে, এওঁচিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৮টি ঘরের মধ্যে ৩০টিতে বাসিন্দারা বসবাস করলেও ১৮টি ঘর নিয়মিত খালি থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন। কয়েকটি ঘর থেকে বিদ্যুতের মিটারও খুলে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজস্ব বাড়ি ও জায়গা-জমি থাকা ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘর ভাগিয়ে নিয়ে ভাড়া দিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছেন। অন্যদিকে, ছদাহা ইউনিয়নে ২৭টি ঘরের মধ্যে শুরু থেকেই মাত্র তিনটি পরিবার নিয়মিত বসবাস করছে। স্থানীয়রা জানান, প্রকৃত মালিকরা না থাকায় তারা সরকারি নানা সাহায্য-সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, এক মাস আগেও সেখানে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় একটি সরকারি ঘর বিক্রি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সরকারি ঘর এভাবে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের উচিত তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও দুস্থদের হাতে ঘরগুলো হস্তান্তর করা।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশ কিছু ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা না থেকে ভাড়া দেওয়া এবং বিক্রির অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুততম সময়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।