আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণে সাগর থেকে চারটি পৃথক অভিযানে ১৯৫ জন অভিবাসী ও শরণার্থীকে উদ্ধার করেছে দেশটির হেলেনিক কোস্টগার্ড। সোমবার রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গত কয়েক দিনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গ্রিসের উপকূলের দিকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাত্রা বেড়েছে। সর্বশেষ অভিযানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি চালকবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে একটি নৌকার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। নৌকাটিতে ৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন।
ক্রিটের কাল্লি লিমেনেস এলাকার দক্ষিণে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি উদ্ধারকারী জাহাজ তাদের শনাক্ত করে। ওই সময় আবহাওয়া ভালো ছিল এবং বাতাসের গতিও অনুকূলে ছিল।
এর আগে একই এলাকার দক্ষিণে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। কাল্লি লিমেনেস থেকে প্রায় ৪২ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে তাদের উদ্ধার করে গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ। পরে তাদের নিরাপদে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ছাড়া আগিয়া গালিনির দক্ষিণে আরও দুটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি অভিযানে ৪০ জন করে মোট ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়। ফ্রন্টেক্সের একটি চালকবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পর নিরাপদে আগিয়া গালিনির বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় আবহাওয়া তুলনামূলক ভালো ছিল এবং বাতাসের গতিবেগ বিউফোর্ট স্কেলে সর্বোচ্চ ৫ ছিল।
চারটি অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৯৫ জন অভিবাসী ও শরণার্থীর মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। তাদের সবাইকে নিরাপদে গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
তবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গ্রিস এখনো ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গাভদোস, ক্রিট এবং পূর্ব এজিয়ান সাগরের বিভিন্ন গ্রিক দ্বীপ উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্ক থেকে ইউরোপের দিকে যাত্রা করা মানুষের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে।