স্টাফ রিপোর্টার:
দারিদ্র্যের অন্ধকার কাটিয়ে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোহাম্মদ মোরতাজুল করিম বাদরু। বগুড়ায় ফাউন্ডেশনের সহযোগী সংস্থাগুলোর নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি উন্নয়নের সুফল যেন গ্রামের শেষ প্রান্তের মানুষের দুয়ারে পৌঁছে, সেজন্য সক্রিয় ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) বগুড়া সার্কিট হাউসে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোহাম্মদ মোরতাজুল করিম বাদরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তৌফিকুর রহমান। বগুড়া জেলায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আওতাধীন সহযোগী সংস্থাগুলোর নির্বাহী প্রধানরা এতে অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, উন্নয়ন কেবল পরিসংখ্যানের সাফল্য নয়; তা হতে হবে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের গল্প। দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনেই নিবেদিত থাকতে হবে সহযোগী সংস্থাগুলোকে।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পানি ও স্যানিটেশন, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন এবং নিরাপদ মহাসড়ক কার্যক্রম।
সভায় ফাউন্ডেশনের চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, সহযোগী সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা বোঝার পাশাপাশি উপকারভোগীর প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালনা করা জরুরি।
মতবিনিময় সভাটি ফাউন্ডেশন ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে বক্তারা বলেন, তখনই উন্নয়ন হবে টেকসই ও মানবকেন্দ্রিক।
বক্তারা বলেন, দারিদ্র্যের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, কর্মদক্ষতা ও স্বাবলম্বিতা গড়ে তোলাই উন্নয়ন উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, খোন্দকার মোহাম্মদ মোরতাজুল করিম বাদরুর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছবে উন্নয়নের প্রকৃত সুফল।