মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অস্ত্রধারী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, নিয়মিত মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য রয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদ উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ৯ জন, মাদকসেবী ৪৫ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১৪ জন, অস্ত্রধারী ১ জন, ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত ১ জন, ছিনতাইকারী ৪ জন, নিয়মিত মামলার আসামি ৭ জন, অন্যান্য ধারার মামলায় অভিযুক্ত ৮ জন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৯২ জন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ৩ জন, মাদকসেবী ১০ জন এবং অস্ত্রধারী ১ জনসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।
ফতুল্লা মডেল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ জন, নিয়মিত মামলার ১ জন আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ২ জন সদস্যসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের পাশাপাশি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকসেবী ২ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৩ জন, ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত ১ জন, নিয়মিত মামলার আসামি ১ জন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ থানায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্দর থানা এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকসেবী ১ জন এবং অন্যান্য ধারার মামলায় অভিযুক্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এ এলাকায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১০ জন। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হওয়ায় মাদক সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে তদন্তের গুরুত্ব রয়েছে।
সোনারগাঁও থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে মাদকসেবী ২০ জন, ছিনতাইকারী ৪ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৪ জন এবং নিয়মিত মামলার ১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ থানায় সর্বমোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক দিনে বিভিন্ন শ্রেণির এতসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ও ৫ লিটার চোলাই মদসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকসেবী ১২ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১ জন এবং নিয়মিত মামলার ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ থানায় মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা ও চোলাই মদ উদ্ধারের ঘটনা মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আড়াইহাজার থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ জন এবং নিয়মিত মামলার ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ থানায় সর্বমোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক উদ্ধার ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পুলিশের বিশেষ এ অভিযানে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ছিনতাইকারী, ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অন্যান্য মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তারের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে নিয়মিত নজরদারি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানা ও ডিবি পুলিশের পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে মোট ৯২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।