এ আর সুমন:
থানায় মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে কোনো টাকা লাগে না, প্রয়োজন নেই কারও সুপারিশেরও। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে থানায় এসে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন, সে জন্য সবার প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খাঁন।
তিনি বলেন, থানায় মামলা ও জিডি করতে কোনো টাকা লাগে না। জনগণের জন্য তাঁর দরজা সব সময় উন্মুক্ত। যেকোনো সমস্যায় থানায় এসে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত।
পুলিশি সেবা সহজলভ্য করা, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ওসি সোহেব খাঁন। সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই থানায় এসে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
করিমগঞ্জ উপজেলায় মাদক কারবার, সন্ত্রাস ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ওসি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সহযোগিতা করাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন ওসি।
২০০৫ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা সোহেব খাঁন ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নিজ জেলা বগুড়ায় বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করিমগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তার। তিনি দুই দফায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবার ২০১৩-২০১৪ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০২০-২০২১ সালে তিনি মিশনে অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে কাজের অভিজ্ঞতা এবং কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে করিমগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা তাঁর।
সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভয়ভীতি বা দ্বিধা ছাড়াই থানায় এসে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন ওসি সোহেব খাঁন। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও জোর দিচ্ছেন তিনি।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ওসি।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, করিমগঞ্জ থানায় পুলিশি সেবা হবে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত। অপরাধ দমনে কঠোরতা এবং সেবা প্রদানে আন্তরিকতার মাধ্যমে পুলিশ জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।