মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন মাদক ব্যবসায়ী, ৪৮ জন মাদকসেবী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৩ জন, একজন ছিনতাইকারী, নিয়মিত মামলার দুই আসামি, অন্যান্য ধারায় পাঁচজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের দুই সদস্য। এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফতুল্লা মডেল থানা
ফতুল্লা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩২ পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে ১০ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে দুজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইনসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে নয়জন, একজন ছিনতাইকারী এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোনারগাঁ থানা
সোনারগাঁ থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১১১ পিস ইয়াবাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকসেবনের অভিযোগে ১৭ জন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ থানায় মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বন্দর থানা
বন্দর থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসেবনের অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে একজন এবং নিয়মিত মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর এলাকায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানা
রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযানে মাদকসেবনের অভিযোগে একজন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সাতজন এবং অন্যান্য ধারায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ থানায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় মাদকসেবনের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপরাধ দমনে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।
আড়াইহাজার থানা
আড়াইহাজার থানা পুলিশ নিয়মিত মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলাজুড়ে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।