মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, খালের পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সদর উপজেলার শিয়াচর এলাকার ওয়াপদা খালের পাড়ে ১০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির। কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এ সময় প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, নালা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে শিয়াচর এলাকার ওয়াপদা খালের পাড়ে ১০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং খালের আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মনোভাব গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে।
কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশ, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন, নালা ও খালসংলগ্ন স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে এসব স্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি। কোনো এলাকায় একবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেই মশার প্রজনন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
একইভাবে বৃক্ষরোপণের সুফল পেতে শুধু গাছের চারা রোপণ করাই যথেষ্ট নয়; রোপণ করা চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াপদা খালের পাড়ে রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করা হলে দীর্ঘমেয়াদে সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বৃক্ষরোপণকে একই কর্মসূচির আওতায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।