সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে: ড. আবদুল মঈন খান

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নগরীর ঐতিহ্যবাহী আমলাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি প্রাচীন বন্দরনগরী। একসময় পাটশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল এ শহর। পাটশিল্পকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারায়ণগঞ্জের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। এ ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতিও বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সেই ঐতিহ্য নারায়ণগঞ্জবাসী বজায় রাখবে। নারায়ণগঞ্জে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করার যে ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য আমরা বজায় রাখব। আসুন, আজকের এই আনন্দের দিনে আমরা সেই শপথ গ্রহণ করি।”

মন্ত্রী বলেন, তাঁরা সেখানে বক্তৃতা দিতে নয়, বরং আনন্দ-উৎসবে অংশ নিতে এসেছেন। তবে বিজয়া ও শারদীয় উৎসব পালনের তাৎপর্য উপলব্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে চিরকালই সত্য ও মিথ্যা, সুর ও অসুরের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে সত্য ও শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তা পাওয়া যায়।

দুর্গাপূজা শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এ উৎসব থেকে মিথ্যাকে পরাজিত করে সত্য প্রতিষ্ঠা, অন্যায়কে পরাস্ত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা নিতে হবে। এসব মূল্যবোধ ধারণ করতে পারলেই পূজার আয়োজন সার্থক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দুর্গাদেবীর বিভিন্ন নাম ও প্রতীকের তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেবীর অপর নাম মহিষাসুরমর্দিনী। এ নামের মধ্য দিয়ে অন্যায় ও অসুরশক্তিকে দমন করে শুভশক্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়া হয়। দেবীর আরেক নাম দশভুজা। তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রগুলোর প্রতীকী তাৎপর্য হলো অন্যায় দূর করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। দুর্গাপূজা থেকে এ শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলে আনন্দ-উৎসবের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, গত বছরও পূজার শুরুতে তিনি আমলাপাড়া পূজামণ্ডপে এসেছিলেন, এবারও এসেছেন। চাঁদের অবস্থান ও গণনার ওপর নির্ভর করে এবার পূজার আনন্দ-উৎসবের জন্য এক দিন বেশি পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান, আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *