বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:
সাংবাদিকদের কাজ সাংবাদিকতা করা, রাজনীতিবিদ হওয়া নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের সততা ও সাহসের সঙ্গে সরকারের ভালো-মন্দ তুলে ধরতে হবে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (বেরোবিসাস) এক যুগপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে সাংবাদিকদের অনেক সময় রাজনীতিবিদদের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। তাঁর মতে, সুবিধাভোগী মনোভাব থেকে সাংবাদিকদের এ ধরনের ভূমিকা তৈরি হতে পারে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের জায়গায় অবিচল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ বিএনপি ক্ষমতায় আছে, ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী কিংবা আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় আসতে পারে। তবে সাংবাদিকদের লেখনীতে সততা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। এমনভাবে লিখতে হবে, যেন ১০ বছর পরও সেই লেখা সমাজ, দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ দেশের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারত। কিন্তু বড় ঘটনা ঘটলেও তা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের অনেক নেতিবাচক চর্চা এখনো বহাল রয়েছে। পরিবর্তনের জন্য সময় প্রয়োজন হলেও বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কামরুল ইসলাম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আগে আওয়ামী লীগ যে ধরনের ভূমিকা পালন করত, বর্তমানে বিএনপি কিংবা বিরোধী দলের অনেকের মধ্যেও একই ধরনের আচরণ দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন না এলে দেশের প্রকৃত মঙ্গল নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
সাংবাদিকতার দায়িত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। যেসব সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড জনস্বার্থের পরিপন্থি, সেগুলো সাহসের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিদেরও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না—সরকারেরও নয়, ব্যক্তিরও নয়। তবে সাংবাদিকেরা সাহসের সঙ্গে ভুলগুলো তুলে ধরলে এবং তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হলে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সমালোচনা মানুষকে সংশোধিত হতে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে সহায়তা করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান যেকোনো দেশে ঘটতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে জাতীয় মসজিদের খতিব কিংবা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কেন দেশ ছেড়ে পালাতে হবে, তা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আবু সাঈদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পরিবর্তনের যে চেষ্টা হয়েছে, তার সুফল কতটা ধরে রাখা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সবার জন্য ভবিষ্যৎমুখী, কর্মমুখী ও সৎ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।