নির্বাচন পেছাতে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। এর মধ্যেই নির্বাচন পেছানোর কৌশল হিসেবে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু—এমন খবর প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু।

সোমবার ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজসহ সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা। তবে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’আল জামিরের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের আশঙ্কা ছিল—এই সময়ে ইরানে হামলা চালানো হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে এবং ইসরায়েলের নির্বাচনও ব্যাহত হতে পারে। তিনি সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযানের আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষরও চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনে জয়ী হয়ে নেতানিয়াহু সরকার গঠন করতে পারলে সেনাপ্রধান জামিরকে বরখাস্ত করতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, সেনাপ্রধানের আপত্তির পর নেতানিয়াহু ইরানে অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধানকে সতর্ক করেছিলেন যে, এ ধরনের হামলা ইসরায়েলের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে।

তবে নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ—দুজনই এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন। সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাঁদের মতবিরোধ বা দূরত্ব বাড়ার খবরও নাকচ করেছেন তাঁরা। সোমবার সকালে কাৎজ বলেন, নির্বাচনের আগে ইরানের ওপর হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও কাৎজের প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন সেনাপ্রধান জামির। তবে ইরানে অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের মতবিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *