নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘুমন্ত ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর গায়ে গরম পানি ঢেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এতে কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় সে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রওশন আরার সঙ্গে প্রতিবেশী সোনিয়া আক্তারসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন সময় খুন-জখমের হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রওশন আরা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে অভিযুক্তরা কৌশলে তাঁদের বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় শয়নকক্ষে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা রওশন আরার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে আফরিন আক্তারের গায়ে অভিযুক্ত সোনিয়া আক্তার গরম পানি ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কিশোরীর কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গিয়ে গুরুতর জখম হয়।
কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তাঁর মা রওশন আরা।
অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জাকির হোসেনের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (৩৫), মো. বিল্লালের ছেলে মো. মোস্তফা (৪৫), মোস্তফার স্ত্রী শিলা আক্তার (৪০) এবং রহম আলীর ছেলে জাকির হোসেনকে (৩৮)। তাঁদের সবার বাড়ি সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকায়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।