নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৯৬

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ উদ্যোগে জেলার সাতটি থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে ৪ হাজার ৫৪০ পিস ইয়াবা ও এক বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে গ্রেপ্তার ৯৬ জনের মধ্যে সাতজন মাদক ব্যবসায়ী, ৫৮ জন মাদকসেবী, ওয়ারেন্টভুক্ত ১৫ জন, নিয়মিত মামলার সাতজন, অন্যান্য ধারায় সাতজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের দুই সদস্য রয়েছেন।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ছয়জন, ওয়ারেন্টভুক্ত একজন এবং নিয়মিত মামলার তিনজনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী, ১৩ জন মাদকসেবী, ওয়ারেন্টভুক্ত তিনজন, নিয়মিত মামলার তিনজন এবং অন্যান্য ধারায় দুজনসহ মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ী, ১৪ জন মাদকসেবী, ওয়ারেন্টভুক্ত চারজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জন মাদকসেবী, ওয়ারেন্টভুক্ত দুজন এবং অন্যান্য ধারায় তিনজনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সোনারগাঁও থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে সবচেয়ে বেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ সময় ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও এক বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে চারজন মাদক ব্যবসায়ী, ১১ জন মাদকসেবী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত দুজনসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত তিনজন, মাদকসেবী দুজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া আড়াইহাজার থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছয়জন মাদকসেবী ও নিয়মিত মামলার একজনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও তৎপর রয়েছে।

এদিকে, অপরাধ দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *