কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে তিন ভাইকে কুপিয়ে জখম দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

খসরু মৃধা:

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে শরীফ পাঠান ও রুহুল পাঠানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের মো. মোস্তফা পাঠানের পরিবারের সঙ্গে তাঁর আপন চাচা নাজিম উদ্দিন পাঠান এবং চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর সকালে মোস্তফা পাঠান ও তাঁর দুই ভাই বাড়ির পূর্ব পাশে আতাব উদ্দিনের বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাজিম উদ্দিন পাঠানের নির্দেশে নাজমুল ও সোহেলসহ অভিযুক্তরা দা, ছেন, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে নাজমুল পাঠান ওরফে বাবলু ধারালো ছেন দিয়ে মোস্তফা পাঠানের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এ সময় মোস্তফাকে রক্ষা করতে তাঁর ভাই শরীফ পাঠান এগিয়ে এলে সোহেল পাঠান তাঁর ডান কাঁধ ও ডান গালে কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে নাজিম উদ্দিন পাঠান শরীফের বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেন।

একই সময় সোহেল পাঠান রুহুল পাঠানের বাম কাঁধে এবং কাঁধের নিচে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত পরিবারের নারী সদস্যরাও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁদের মারধর করেন এবং তাঁদের কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

তিন ভাইয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শরীফ ও রুহুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতদের পরিবারের দাবি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীফের হাত ও কাঁধ এবং রুহুলের বাম কাঁধের হাড় ও রগ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মোস্তফা পাঠান বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তাঁর চাচা নাজিম উদ্দিন পাঠান, চাচাতো ভাই নাজমুল পাঠান ওরফে বাবলু, সোহেল পাঠান, নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী হাজেরা বেগম, বাবলুর স্ত্রী শান্তা বেগম এবং সোহেল পাঠানের স্ত্রী মুক্তি বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২৮(১০)২৬।

এদিকে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের ওপর এমন হামলার অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *