বিনোদন ডেস্ক:
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেছেন, জীবনের চলার পথে তিনি অনেক ভুল করেছেন। তবে সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সেগুলো শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। তাঁর মতে, ভুল মানুষের জীবনেরই অংশ। ভুলের মধ্য দিয়েই মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং সেখান থেকে শেখার সুযোগ পায়।
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন ও অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বাঁক, চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত উপলব্ধির কথা বলেন মৌসুমী।
নিজের ভুলের বিষয়ে মৌসুমী বলেন, মানুষ চলার পথে অনেক ভুল করে, যা একসময় অনুশোচনা হয়ে ফিরে আসে। তবে ভুলেরও প্রয়োজন আছে। ভুল করার পর মানুষ একসময় বুঝতে পারে কোথায় ভুল হয়েছে এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনিও জীবনের পথে ভুল করেছেন, সেসব শুধরে সামনে এগিয়েছেন বলেই আজ এত দূর আসতে পেরেছেন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর উপলব্ধি, ভুল মানুষকে পরিণত হতে সহায়তা করে।
অভিনেত্রী আরও বলেন, ভুল করলে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। তবে ভুলের মুখোমুখি হওয়াও জীবনের অংশ। ভুল-ভ্রান্তি, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না—সবকিছু নিয়েই মানুষের জীবন। তাঁর ভাষায়, জীবনের যোদ্ধা তিনি, আমরাও সবাই।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের কর্মপরিবেশ নিয়েও কথা বলেন মৌসুমী। তিনি জানান, তাঁরা যখন একসঙ্গে কাজ করতেন, তখন জ্যেষ্ঠ ও নবীন শিল্পীরা একটি দলের মতো কাজ করতেন। সে কারণে তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা খুব বেশি ছিল না। তবে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে শিল্পীদের শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হতো।
মৌসুমীর ভাষ্য, চলচ্চিত্রশিল্পে ছোটখাটো বিষয় নিয়েও নানা ধরনের রাজনীতি হয়। এসবের কারণে অনেক সময় শিল্পীদের সমস্যায় পড়তে হতো। এমন পরিস্থিতি এড়াতে তাঁরা নিজেদের মধ্যে দলগতভাবে চলতেন, যাতে বিপদে পড়লে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একসঙ্গে কাজ করা শিল্পীদের মধ্যে ঈর্ষা বা হিংসা ছিল না।
নারী শিল্পীদের সম্মান ও অবস্থান নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রশিল্প নারী শিল্পীদের খুব বেশি সম্মান দিয়েছে—এ কথা বলা যাবে না। শাবানা, ববিতা কিংবা তাঁর মতো শিল্পীরা নিজেদের যোগ্যতা ও কাজের মাধ্যমে সম্মান অর্জন করেছেন। নারী শিল্পীরা যতটুকু স্বীকৃতি পেয়েছেন, তা মূলত তাঁদের নিজস্ব যোগ্যতার কারণেই।