মোঃ ইমরান মুন্সি:
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বীণাপানি এলাকায় স্লুইসগেটের ঢাল নির্মাণকাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইসগেটের ঢালে নকশা ও নির্মাণপদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে প্রয়োজনীয় ব্লক স্থাপন ছাড়াই সিমেন্টের ঢালাই করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্লুইসগেটের ঢাল সুরক্ষিত রাখতে প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করা জরুরি। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ঢালের কাজে ব্লক স্থাপন না করে সিমেন্টের ঢালাইয়ের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এতে নির্মাণকাজের মান বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নির্মাণকাজে যথাযথ কারিগরি পদ্ধতি অনুসরণ না করা হলে ভবিষ্যতে পানির স্রোত, জোয়ার-ভাটা ও প্রাকৃতিক চাপের কারণে ঢালের ক্ষতি হতে পারে। এতে স্লুইসগেটের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রকাশিত পুরোনো সংবাদ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর বীণাপানি বাজারসংলগ্ন হাওলাদার বাড়ির সামনে বীণাপানি-দোগনা-বিষখালী নদীর সংযোগ খালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ নিয়ে অনিয়ম ও কাজ ফেলে রাখার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে প্রকল্পটির ব্যয় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়। সে সময় নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ থাকায় বীণাপানি, বলতলা, কৈখালী, পশ্চিম শৌজালিয়া, দোগনা ও চড়াইল গ্রামের বাসিন্দাদের পানি ব্যবস্থাপনা ও চলাচলে ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, স্লুইসগেটের ঢাল নির্মাণে অনুমোদিত নকশা, কার্যাদেশ ও প্রকৌশলগত নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পরীক্ষা করা হোক। একই সঙ্গে ব্লক স্থাপন না করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি এবং নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করা হলে এ ধরনের অভিযোগ ও সম্ভাব্য অনিয়ম এড়ানো সম্ভব।